1. admin@news1.mshop.com.bd : DNB TV :
October 19, 2026, 11:08 am

দেশের জন্য সতর্কবার্তা – বজ্রপাতের ঝুঁকি সর্বোচ্চ

Reporter Name
  • Update Time : Monday, May 4, 2026
  • 0 Time View
দেশের জন্য সতর্কবার্তা - বজ্রপাতের ঝুঁকি সর্বোচ্চ
দেশের জন্য সতর্কবার্তা - বজ্রপাতের ঝুঁকি সর্বোচ্চ

বাংলাদেশে বজ্রপাত একটি ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যার মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কাল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বছরে মোট বজ্রপাতের প্রায় ৩৮ শতাংশ ঘটে মার্চ থেকে মে মাসে, আর জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে হয় প্রায় ৫১ শতাংশ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্যান্য মাসের তুলনায় মে মাসে বজ্রপাত সবচেয়ে তীব্র ও ভয়াবহ রূপ নেয়।

৪ মে সোমবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বজ্রপাত প্রস্তুতি ও ঝুঁকি হ্রাস’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়। ব্র্যাক ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মমিনুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবু দাউদ মো. গোলাম মোস্তাফা বলেন, “বাংলাদেশে এমন কোনো দুর্যোগ নেই যা ঘটে না। বজ্রপাত আগেও ছিল, এখনও আছে; তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এর তীব্রতা বেড়েছে।” তিনি আরও জানান, বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে কৃষকদের মধ্যে, এরপর রয়েছে স্কুলশিক্ষার্থী ও নারীরা। এই মৃত্যুহার কমাতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

কর্মশালায় জানানো হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে শুধুমাত্র সতর্কবার্তা প্রদান যথেষ্ট নয়; বরং বজ্রপাতের আগে, চলাকালীন এবং পরে করণীয় সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা পাঁচ দিনের নির্ভুল পূর্বাভাস দিতে সক্ষম। কিন্তু সেই অনুযায়ী আগাম পদক্ষেপ বা ‘আর্লি অ্যাকশন’ না থাকায় প্রাণহানি রোধ করা যাচ্ছে না।” তিনি মনে করেন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের সমন্বয় ঘটাতে পারলে বজ্রপাতে মৃত্যুহার শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক। তিনি বলেন, “মে মাসে বজ্রপাত সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং অনেক সময় তা তীব্র কালবৈশাখীতে রূপ নেয়। বজ্রধ্বনি শোনা মাত্রই দ্রুত ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া উচিত। সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।”

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম কামরুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফাতিমা আক্তার, বুয়েটের অধ্যাপক ড. তানভীর মঞ্জুর এবং সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা।

এছাড়া কর্মশালায় ব্র্যাক, ইউএনডিপি, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল এবং আরআইএমইএস-এর প্রতিনিধিরা বজ্রপাতপ্রবণ অঞ্চল, বিশেষ করে হাওড় এলাকায় তাদের কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগাম সতর্কতা, জনসচেতনতা এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 TV Site
Developer By Zorex Zira