মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জানিয়েছেন, ইরানে একজন মার্কিন বিমানকর্মীকে উদ্ধার করা হয়েছে — এই খবর যে সাংবাদিক প্রথম প্রকাশ করেছেন, তার কাছ থেকে তথ্যের উৎস জানতে চাইবেন তিনি। যদি সাংবাদিক তা না জানান, তবে তাকে জেলে পাঠানো হবে বলেও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের এই বক্তব্য মিডিয়ার বিরুদ্ধে প্রশাসনের সমালোচনা আরও বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তিনি তার সহকারীদের কাছে অভিযোগ করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ সংক্রান্ত সংবাদ অনেক বেশি নেতিবাচক প্রকাশ করা হচ্ছে। ট্রাম্প ও তার সমর্থকরাও কিছু সংবাদ সংস্থার খোলাখুলি সমালোচনা করেছেন।
শুক্রবার ইরানের আকাশে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানো হয়। বিমানে দুজন বিমানকর্মী ছিলেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, তাদের মধ্যে একজনকে মার্কিন উদ্ধারকারী বাহিনী সফলভাবে উদ্ধার করেছে। পরে দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ট্রাম্প বলেন, খবর ফাঁস হওয়ায় চলমান উদ্ধার অভিযান নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন, “প্রথমজনের বিষয়ে এক ঘণ্টা আমরা কিছু বলিনি। তারপর কেউ তথ্য ফাঁস করে দিল। আমরা সেই ফাঁসকারীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “যে মিডিয়া এটি প্রকাশ করেছে তাদের কাছে যাব এবং বলব, ‘জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়, তথ্য দাও, নইলে জেলে যাও।’”
ট্রাম্প কোন সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমের কথা উল্লেখ করেছেন তা স্পষ্ট নয়। তবে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, সিবিএস নিউজ এবং অ্যাক্সিওস এই তিনটি সংবাদমাধ্যম প্রায় একই সময়ে প্রথম বিমানকর্মী উদ্ধারের খবর প্রকাশ করেছিল। হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে, ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের চেয়ারম্যান ব্রেন্ডান কার গত মাসে ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে বলেছেন, যেসব সম্প্রচার মাধ্যম ‘ভুয়া খবর’ প্রচার করে, তাদের লাইসেন্স নবায়নের আগে সংশোধনের সুযোগ আছে। পোস্টের সঙ্গে ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর একটি স্ক্রিনশটও ছিল, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন, “নিচু মানের পত্রিকা ও মিডিয়া চায় আমরা যুদ্ধে হেরে যাই।”
Leave a Reply