1. admin@news1.mshop.com.bd : DNB TV :
October 19, 2026, 12:52 pm

করের বোঝা বাড়ছে – শঙ্কায় সাধারণ ব্যবহারকারীরা

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, May 12, 2026
  • 2 Time View

দেশে প্রথমবারের মতো মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে অগ্রিম আয়করের আওতায় আনতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিসিভেদে মোটরসাইকেলে বছরে দুই হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা কর আরোপের প্রস্তাব থাকছে। এ ছাড়া এলাকাভেদে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা কর আরোপের প্রস্তাব থাকছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বর্তমানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, জিপ, বাস, ট্রাক ও পিকআপের মতো যানবাহনের ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর নেওয়া হচ্ছে। প্রথমবারের মতো মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। সোমবার বাজেটসংশ্লিষ্ট এক সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে আয়কর দিতে হবে না।

তবে ১১১-১২৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বছরে দুই হাজার টাকা আয়কর দিতে হবে। এ ছাড়া ১২৬-১৬৫ সিসির ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বছরে দিতে হবে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০। তবে সংস্থাটির কাছে সিসিভিত্তিক নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই।

নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের মধ্যে ১১০ সিসি বা এর নিচের মোটরসাইকেলের সংখ্যা ১০ লাখ ধরে হিসাব করলে করযোগ্য মোটরসাইকেলের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩৮ লাখ। গড়ে প্রতিটি মোটরসাইকেল থেকে চার হাজার টাকা করে কর আদায় করা গেলে সরকারের কোষাগারে বছরে যোগ হতে পারে প্রায় এক হাজার ৫২০ কোটি টাকা।

মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বর্তমানে এককালীন নিবন্ধন ফি এবং দুই বছর পর পর রোড ট্যাক্স দিতে হয়। ৫০ থেকে ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি ৯ হাজার ২৯১ টাকা। এর পর প্রতি দুই বছর পর পর এক হাজার ১৫০ টাকা রোড ট্যাক্স দিতে হয়।

১২৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি ১১ হাজার ৭৬৪ টাকা এবং প্রতি দুই বছর পর পর দুই হাজার ৩০০ টাকা রোড ট্যাক্স দিতে হয়।
গত এক দশকে বাংলাদেশে মোটরসাইকেল শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ হয়েছে। হোন্ডা, ইয়ামাহা, সুজুকি, বাজাজ ও টিভিএসের বিভিন্ন মডেলের মোটরসাইকেল দেশে সংযোজন করা হচ্ছে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে দেশের লাখো মানুষের।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হলে মোটরসাইকেলের বিক্রি ও উৎপাদন কমে যেতে পারে। এতে নতুন বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

হোন্ডার চিফ মার্কেটিং অফিসার শাহ মো. আশেকুর রহমান বলেন, ‘১১০ সিসির মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের মাসিক আয় সাধারণত ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে। ১২৫ সিসির ক্ষেত্রে তা গড়ে ৪০ হাজার টাকা আর ১৫০ সিসির বেশি হলে আয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে। তবে যারা শখের জন্য উচ্চমূল্যের বাইক কেনেন, তাদের বিষয় আলাদা। ছয় লাখ টাকার মোটরসাইকেল যিনি কিনছেন, তার জন্য প্রতিবছরের কর বড় বিষয় নয়। কিন্তু সাধারণ ব্যবহারকারীদের ওপর এর প্রভাব পড়বে। এতে সামগ্রিক বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’

আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, যানবাহনের মালিকদের প্রতিবছর ফিটনেস নবায়নের সময় নির্ধারিত হারে অগ্রিম আয়কর দিতে হয়, যা পরে আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সমন্বয় করা যায়। একইভাবে ভবিষ্যতে রিটার্নের সঙ্গে এ কর সমন্বয়ের সুযোগ পাবেন মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মালিকরা।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘অগ্রিম কর পরিশোধ একটা বোঝা তৈরি করে। তবে যার মোটরসাইকেল কেনার সামর্থ্য আছে, তার কিছু কর দেওয়ারও সক্ষমতা থাকার কথা। মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন বা প্রতিবছর ফিটনেস টেস্টের সময় কর আদায় হবে। রাজস্ব আদায়ের প্রেক্ষাপটে এটা হয়তো বাস্তবায়ন সম্ভব।’

তথ্য সূত্র: কালের কণ্ঠ

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 TV Site
Developer By Zorex Zira